logo

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সুপার

কুমিল্লা প্রতিনিধি

Published:20 Sep 2026, 04:42 PM

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সুপার

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সুপার

কুমিল্লার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন। 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমকে হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে এর আগেই চারজনকে আটকের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটিও। শুক্রবার বিকালে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। রাত পর্যন্ত অপ্রতিম বাসায় না ফেরায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অপ্রতিম কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সিসিটিভি ভিডিও দেখে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) নামে একজনকে প্রথমে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, এ ঘটনার পেছনে ফাহাদ এবং কামরুল নামে তার আরও দুই বন্ধু জড়িত ছিল। পরবর্তীতে পুলিশ ফাহাদ ও কামরুলকে হেফাজতে নেয়। 

প্রাথমিক তদন্ত ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অপ্রতিম বাধা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন তার মোবাইলটি নিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে  এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। 

এ ছাড়া, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামে আরও এক তরুণকে আটক করে তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনের (১৯) বাবার নাম নূর আলম। তিনি নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা। তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজ থেকে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ঝরে পড়েছেন।  মোফাজ্জেল হোসেন ফাহাদ (১৫) একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার (মেম্বার বাড়ি) বাসিন্দা। সে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মো. কামরুল হাসানের (১৮) বাড়ি দক্ষিণ উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে  এবং মো. সিয়াম (১৯) একই উপজেলার এলাহীপুর গ্রামের বাসিন্দা।  

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো পিসিআর (পূর্ব অপরাধের রেকর্ড) পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর আসামি সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাই এবং তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। 

শনিবার মধ্যরাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। 

তিনি বলেন, আমরা ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছি। মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। যে আইফোনটির কারণে হত্যাকাণ্ড, সেই আইফোনটিও আমরা আসামি তুহিনের দেখানো মতে তার বাসা থেকে উদ্ধার করেছি।

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com