যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস বা সান দিয়েগোর মতো বড় শহর ধ্বংস করে দিতে ইরান সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট নেতা ও রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী তার এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
গত সোমবার নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক ত্যাগ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি ও সারের দাম কিছুটা বাড়লেও বিশ্ব এবং দেশকে নিরাপদ রাখতে এটি খুবই সামান্য একটি মূল্য।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি শহর ধ্বংস করতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেস ধ্বংস করুক, সান দিয়েগো ধ্বংস করুক— এটি খুবই সামান্য একটি মূল্য এবং খুব দ্রুতই এর অবসান ঘটতে চলেছে।’ চলতি ইরান যুদ্ধ ‘একভাবে না একভাবে’ খুব দ্রুত শেষ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যের পরদিন মঙ্গলবার তার পক্ষে সাফাই গেয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে মিডিয়ার বাড়াবাড়ি বাস্তবসম্মত নয়। ইরানকে যদি থামানো না হতো, তবে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো কীভাবে হুমকির মুখে পড়ত, প্রেসিডেন্ট স্পষ্টতই সেটি বোঝাতে চেয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘বিক্ষিপ্ত ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন সেনা পাঠানোর পর এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, আমাদের বিদেশি শত্রুদের উচিত লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো ধ্বংস করে দেওয়া।
নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ায় ইতিমধ্যে আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সান দিয়েগোর কাছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি আসনের প্রার্থী রিপাবলিকান নেতা জিম ডেসমন্ডও ট্রাম্পের এ বক্তব্য থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো মার্কিন শহরই ফেলনা নয় এবং কোনো মার্কিন পরিবারকে কখনো ‘বলির পাঁঠা’ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান-সমর্থক স্বতন্ত্র সদস্য কেভিন কিলি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেসের ডেমোক্র্যাট মেয়র ক্যারেন বাস জানিয়েছেন, এই মন্তব্য তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
সান দিয়েগোতে বড় নৌঘাঁটিসহ লক্ষাধিক সক্রিয় সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারা জ্যাকবসের মতে, ট্রাম্পের বোকামিপূর্ণ যুদ্ধের বলি তার এলাকার সক্রিয় সেনাসদস্য, সাবেক সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা হতে পারেন না।
পিপলসনিউজ/আরইউ