রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে তিন দফায় জামিন আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন আইনজীবী, পাঁচ আসামি ও তিন তদবিরকারকসহ মোট ১১ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শোকজ পাওয়া তিন আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট আন্না খানম, অ্যাডভোকেট এস এম আব্দুল বাতেন সাকিল এবং অ্যাডভোকেট রহিম উদ্দিন।
একই সঙ্গে ওই তিন আইনজীবীকে আগামী ১৫ দিনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে, পাঁচ আসামিকে সংশ্লিষ্ট রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো আদালতে জামিনের আবেদন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমদাদুল হানিফ।
আদালতের আদেশের বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, একই আসামির ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে একাধিক জামিন আবেদন করার সুযোগ নেই। গত রোববার একটি মামলার শুনানির সময় আদালতের নজরে আসে, একই আদেশের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক জামিন আবেদন করা হয়েছে। আবেদনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আদালতের কার্যতালিকায় ছিল।
পরে আদালত তিনটি আবেদন একত্র করে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। বুধবার সম্পূরক কার্যতালিকার প্রথম আইটেম হিসেবে আবেদনগুলোর একযোগে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে আদালত দেখতে পান, পাঁচ আসামির পক্ষে করা তিনটি আবেদনের ভিত্তি একই। অর্থাৎ, নিম্ন আদালতের একটি জামিন নামঞ্জুরের আদেশকে কেন্দ্র করে তিনজন পৃথক আইনজীবীর মাধ্যমে তিনটি আবেদন করা হয়েছে।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছেন। পাশাপাশি পাঁচ আসামি, তিন আইনজীবী ও তিন তদবিরকারকসহ মোট ১১ জনকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই পাঁচ আসামির পক্ষে কোনো আদালতে জামিন আবেদন করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় তিনটি পৃথক আবেদন দায়েরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন আইনজীবীকে আগামী ১৫ দিন হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার আদেশও দিয়েছেন আদালত।
পিপলসনিউজ/এস.সি