logo

জাতিসংঘে বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্পের গাজা কূটনীতিকে লজ্জাজনক বললেন মাক্রোঁ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published:23 Sep 2026, 01:18 PM

জাতিসংঘে বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্পের গাজা কূটনীতিকে লজ্জাজনক বললেন মাক্রোঁ

জাতিসংঘে বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্পের গাজা কূটনীতিকে লজ্জাজনক বললেন মাক্রোঁ

ফিলিস্তিনের গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে পুরো বিষয়টিকে বিশ্ববাসীর জন্য ‘লজ্জাজনক’ বললেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ।

তিনি বলেন, তথাকথিত ওই শান্তি ঘোষণার পরও গাজায় কোনো মানবিক করিডোর এক মুহূর্তের জন্যও চালু হয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী বছর মে মাসে দায়িত্ব ছাড়ার আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজের বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্পের গাজা নীতি নিয়ে এই কঠোর সমালোচনা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

একই পডিয়াম থেকে ট্রাম্প তার গাজা পরিকল্পনাকে ‘ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে দাবি করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই বক্তব্য দেন মাক্রোঁ।

পডিয়ামে হাত চাপড়ে নিজের বিদায়ী ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, এক বছর আগে এই একই জায়গায় প্রায় ডজনখানেক দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আমি অনেকের কটাক্ষ শুনি, ‘স্বীকৃতি তো শুধুই কাগজের টুকরো, বাস্তবতার দিকে তাকান’।

তিনি বলেন, গাজার এই পরিস্থিতিতে আমরা নিষ্ক্রিয় থাকলে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় গিয়ে ঠেকবে?

কেউ কেউ তথাকথিত শান্তির বড়াই করছেন। কিন্তু সেই শান্তি এক মুহূর্তের জন্যও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ খুলে দিতে পারেনি, বলেন তিনি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট প্রশ্ন তোলেন, তবে কি আমরা শুধুই দর্শক হয়ে এমন এক দৃশ্য দেখে যাব, যা আমাদের সবার জন্যই চরম লজ্জার?

মাক্রোঁর সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করেছেন। তিনি সমস্ত জীবিত জিম্মিকে মুক্ত করেছেন এবং নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প এখন গাজায় শান্তির জন্য ২০ দফার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যরা যখন কেবল কথা বলছেন, প্রেসিডেন্ট তখন কঠিন সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সমাধান করেছেন।

ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য আর কেউ ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কিছু করেনি বলে দাবি করেন হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে ফ্রান্সের ভেতরেই বহু রাজনীতিক ও অধিকারকর্মীর সমালোচনার মুখে পড়েছেন মাক্রোঁ। তাদের মতে, ফিলিস্তিনের বিষয়টি নিয়ে ফ্রান্স পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পারেনি।

তবে এসব সমালোচনার মধ্যেই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স।

জাতীয় পর্যায়ে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি দখলকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে আসা পণ্য নিষিদ্ধ করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি তুলে ধরে মাক্রোঁ বলেন, পশ্চিম তীরের দিকে তাকান, সেখানে প্রতিদিন অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কার নামে এসব হচ্ছে? হামাস তো কখনোই পশ্চিম তীরে কার্যক্রম চালায়নি। সেখানে প্রতিদিন যা ঘটছে, তা ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্বের বৈধ অধিকারকে কেড়ে নিচ্ছে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের যে পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়ন দিন দিন অসম্ভব করে তোলা হচ্ছে।

গত এক বছরে ফ্রান্স ও ইসরায়েলের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, যারা মনে করেন প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তারা ভুল ভাবছেন। এতে কেবল বর্তমান ও ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নিরাপত্তাই দুর্বল হচ্ছে।

২০১৭ সালে প্রথমবার জাতিসংঘ মঞ্চে বক্তব্য দেওয়া মাক্রোঁ ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাত মাস আগে শেষবারের মতো এই অধিবেশনে হাজির হলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চের কূটনৈতিক জাঁকজমক, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রতীকী বিষয়গুলোর দিকে মাক্রোঁর ঝোঁক থাকলেও সেগুলোকে স্থায়ী কৌশলগত অর্জনে রূপ দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা এবং জাতিসংঘের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে সব সময় সোচ্চার ছিলেন ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধান।

বিশ্বের আবার অসভ্য যুগে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে মাক্রোঁ বলেন, দেশগুলোকে এখন দুটি পথ বেছে নিতে হবে, হয় ক্ষমতার দাপট ও নিপীড়নের বিশ্ব, না হয় একটি সভ্য আন্তর্জাতিক সমাজ।

তিনি বলেন, আমাদের সবার পরম দায়িত্ব জাতিসংঘের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ানো। কোনো কোনো পক্ষ দায়মুক্তির যে নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়তে চাইছে, তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।

জাতিসংঘ দীর্ঘজীবী হোক, এই আহ্বান জানিয়ে নিজের ভাষণ শেষ করেন মাক্রোঁ।

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com