logo

থানায় ওসির সঙ্গে এমপি রুমিনের বাগবিতণ্ডা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Published:23 Oct 2026, 11:08 AM

থানায় ওসির সঙ্গে এমপি রুমিনের বাগবিতণ্ডা

থানায় ওসির সঙ্গে এমপি রুমিনের বাগবিতণ্ডা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা পেশার মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকেরা জানান, কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য ও তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন ফোন করলেও ওসি সাড়া দেন না। এমনকি তাদের ফোনও ধরেন না। ওসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি সংসদ সদস্য। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা।

থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তার কক্ষে বসে আছেন। তার পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চারপাশে সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা ঘিরে ছিলেন।

সংসদ সদস্য, তার পিএস ও নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছিলেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, এসব বিষয় নিয়ে ওসির সঙ্গে ওই সংসদ সদস্য ও তার নেতা-কর্মীদের বিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের এসপিকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো সাড়া দেননি।

পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসিকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নানা অভিযোগ ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। আমি একটা তালিকাও নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি কোনো মন্তব্যও করেন নাই। দুই পাতার তালিকা ছিল যে এই তারিখে এই অপরাধ, ওই তারিখে ওই অপরাধ। উনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’

মবের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মব সাধারণত যায় থানায় আসামি ছিনাইয়া আনতে। আমি কি কোনো আসামি ছিনাইয়া আনছি, এক। আমি কি ওনার কাছে টাকা দাবি করেছি, দুই। আমি কি বলেছি আমাকে কিছু দিতে হবে, তিন। আমি তিনটার একটাও বলিনি। তাহলে মব হলো কোথা থেকে।’

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে আমাকে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। আমার পিএস ১২ বার ফোন দিলেও তিনি (ওসি) ধরেননি। উনি বলেছেন, আমার নিরাপত্তা আমাকে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলব।’

ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয় এসেছিলেন। তিনি শত শত লোক নিয়ে থানার মধ্যে হইচই করে একটি অস্থিরতা তৈরি করে আমার কক্ষে। একটা বিব্রতকর অবস্থা।’

নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা পূজাকেন্দ্রিক সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উনি গানম্যান চাইবেন। সেটা আলাদা বিষয়। একটা দল ওই সময় তার সঙ্গে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।’

ওসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজনকে গ্রেপ্তার না করার জন্য আমাকে সব সময় চাপ প্রয়োগ করেন তিনি (রুমিন ফারহানা)। আমি নোটডাউন করে রেখেছি। উনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এখানে এসেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সব মিথ্যা।’

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com