logo

পদত্যাগ করিনি, ক্যাম্পাসে ফিরব না এমন কথাও বলিনি : চুয়েট উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:14 Oct 2026, 11:20 AM

পদত্যাগ করিনি, ক্যাম্পাসে ফিরব না এমন কথাও বলিনি : চুয়েট উপাচার্য

পদত্যাগ করিনি, ক্যাম্পাসে ফিরব না এমন কথাও বলিনি : চুয়েট উপাচার্য

পদত্যাগ করেছেন এবং ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাসে ফিরবেন না- এমন খবরকে মিথ্যা দাবি করেছেন টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার হওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করেছি এবং ভবিষ্যতে চুয়েট ক্যাম্পাসে পদার্পণ করব না- এ রকম কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দিইনি। আপনারা দেখেছেন, যখন আমাকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আমার কথা বলার মতো পরিস্থিতি ছিল না। যারা এ রকম সংবাদ প্রচার করছেন, তাদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করবেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারের পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

বর্তমানে উপাচার্যকে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসায় একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বোর্ডের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানানোর কথা রয়েছে।

উপাচার্য জানান, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তাদের ১১ জনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। অসুস্থ হয়ে পড়েন দুজন অ্যালামনাই সদস্যও। তাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, আপনারা এরই মধ্যে অবগত হয়েছেন, আমরা অমানবিক একটা পরিবেশে ছিলাম। এর প্রেক্ষিতে আমাদের ১১ জনের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটে। অনেকে অসুস্থ হয়ে যান। আমাদের দুজন অ্যালামনাই সদস্য গত রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় আমাদের অমানবিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে একপর্যায়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শক্রমে আমাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

সরকারের সঙ্গে কথা হওয়ার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সরকার তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাকে ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের অমূল্য শিক্ষাজীবন নষ্ট করো না। তোমরা হয়তো কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পাল্লায় পড়ে ব্যবহৃত হচ্ছ। তোমরা যথেষ্ট বুদ্ধিমান। তোমরা কারও দ্বারা ব্যবহৃত হবে না, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম আরও জানান, রাষ্ট্র তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেই তিনি চট্টগ্রামে এসেছেন। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে বা কোনো দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তিনি আসেননি।

গত সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে আরও অনেককে সঙ্গে নিয়ে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এরপর শিক্ষার্থীরা তাকে দুপুর ১২টার মধ্যে কার্যালয় ছাড়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কার্যালয় না ছাড়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের ফটকে আবার তালা দেওয়া হয়। এতে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্যসহ সেখানে থাকা অন্যরা।

এরপর টানা ৩০ ঘণ্টা তারা অবরুদ্ধ ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ক্যাম্পাসে গিয়ে উপাচার্যকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশি পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ক্যাম্পাস থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com