বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ আসন (নারী আসন-২৩) সংবিধানের ৬৭ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শূন্য হয়েছে।
সংবিধানের এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি— (২) কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।
সংসদ সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিষ্টির শূন্য হওয়া আসনটি পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অনুরোধ করেছে সংসদ সচিবালয়। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিটি বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০টি। সংবিধান অনুসারে, জাতীয় সংসদের দলগুলো সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে নারী আসন বণ্টন করা হয়। বিএনপির মনোনয়নে এবারের ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন। গত ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের গেজেট হয়। আর ৩ মে তারা শপথ নেন। এ হিসেবে প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসিকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরপর বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখনই আলোচনায় আসে যে তিনি পদত্যাগ করেছেন।
তবে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে ফেরদৌসী আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তার সঙ্গে দেখা করেছি।’ পদত্যাগের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, তদন্ত হোক। পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’
এদিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিকালে সংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।
বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাড্ডার ঘটনা নিয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুই দিন ধরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলা ও ভাঙচুরে কারা জড়িত ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেপথ্যে কারা ভূমিকা রেখেছেন— এসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া নিয়েছেন। তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ