রাজধানীর কমলাপুরে আবাসিক হোটেলের আড়ালে মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। মতিঝিল এলাকার কমলাপুরে অবস্থিত ‘বি-বাড়িয়া হোটেল’ ঘিরে মাদক বিক্রি, অর্থের বিনিময়ে নারী সরবরাহ এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণে মঞ্জু ও বাদশা নামে দুই ভাই জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের।
অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটিতে কক্ষ ভাড়া নেওয়ার পর ইয়াবা, হেরোইন ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে নারীদের সরবরাহ করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলটিতে শুধু আবাসনের সুযোগই নয়, মাদক সংগ্রহের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হোটেলটির মালিকপক্ষের একজন নিজেও মাদক সেবন করেন।
হোটেলটিকে ঘিরে ওঠা আরেকটি গুরুতর অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে নারী সরবরাহ। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে নারী পাওয়া যায়। এই অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট নারীকে দেওয়া হয় এবং বাকি অংশ হোটেল পরিচালনাকারী পক্ষ পায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, সম্মতি এবং পরিচয় সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করা বা পাচার করা হয়ে থাকলে তা পৃথকভাবে তদন্তের দাবি রাখে।
হোটেলটিকে ঘিরে আরও অভিযোগ রয়েছে, ধনী পরিবারের ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে মাদক ও নারীর প্রলোভন দেখানো হয়। পরে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে অর্থ আদায়ের জন্য ব্ল্যাকমেইল করা হতে পারে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সরকারের সময়ে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে একটি প্রভাববলয় গড়ে তোলা হয়েছিল। কেউ প্রতিবাদ করলে মামলা দেওয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে জামিনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির সুপারিশ করার অভিযোগও রয়েছে।
আরও দাবি করা হচ্ছে, ওই সময়ে মঞ্জু ও বাদশা আড়ালে থেকে কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিএনপিপন্থী পরিচয় ব্যবহার করে তারা আবারও প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, হোটেলটিকে ঘিরে কথিত কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এ পরিস্থিতিতে আশপাশের নারী ও পরিবারের সদস্যদের চলাচলেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
বি-বাড়িয়া হোটেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এখন জরুরি। মাদক সরবরাহ, অর্থের বিনিময়ে নারী সরবরাহ, ব্ল্যাকমেইল এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে অভিযোগের আড়ালে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। হোটেল কর্তৃপক্ষ, অভিযুক্ত দুই ভাই, স্থানীয় থানা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা জরুরি।
পিপলসনিউজ/এস.সি