logo

প্রায় ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ৩০০ পরিবার : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:08 Nov 2026, 12:41 PM

প্রায় ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ৩০০ পরিবার : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

প্রায় ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ৩০০ পরিবার : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

সড়ক দুর্ঘটনায় গত ছয় বছর ১০ মাসে ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে সংগঠনটি ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার এই চিত্র তুলে ধরে।

সংস্থাটি জানায়, দেশের নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী বা স্ত্রী নিহত হয়েছেন এমন ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি এবং বাবা ও সন্তান নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। ১৯৩টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৩৮৬ জন এবং ১৫৯টি দুর্ঘটনায় পিতা বা সন্তান মারা গেছে ৩১৮ জন।

অটোরিকশার যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ২১১টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ১১৮, চারজনের ক্ষেত্রে ৯২, পাঁচজন ৫৩, ছয়জন ৩৮টি এবং সাতজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। মোট ৫২৫টি দুর্ঘটনায় সড়কে ঝরেছে এক হাজার ৭২৮ প্রাণ।

মাইক্রোবাসের আরোহী হিসেবে একই পরিবারের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, তিনজন ৪৬টি, চারজন ৩৯, পাঁচজন ২৮, ছয়জন ২০টি, ১১ জন নিহতের ঘটনা চারটি ও ১৪ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে একটি। মোট ১৮৬টি দুর্ঘটনায় ৭০৮ জন নিহত হয়েছেন।

প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় আরোহী হিসেবে একই পরিবারের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি। তিনজন নিহতের ঘটনা ৩১টি, চারজন ২৪টি ও পাঁচজন নিহতের ১৯টি ঘটনা ঘটেছে। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত হয়েছেন।

অ্যাম্বুলেন্স আরোহী হিসেবে একই পরিবারের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১১টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ১৫টি, চারজন নয়টি, পাঁচজন সাতটি ও আটজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে তিনটি। মোট ৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বাস যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, তিনজন নিহতের ঘটনা নয়টি ও চারজন নিহতের ছয়টি ঘটনা ঘটেছে। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৫ জন।

এই সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ ভ্যান উল্টে একই পরিবারের চারজন নিহতের একটি ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন উল্লেখ করে, পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মোটরবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ও বাস যাত্রী হিসেবে একসঙ্গে পুরো পরিবার অথবা এক পরিবারের অধিক সদস্য নিহতের প্রবণতা বাড়ছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে পরিবারভিত্তিক প্রাণহানির কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সবাই একসঙ্গে কাজে বা ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, অধিকাংশ মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা এবং এসব যানবাহনের চালকদের অদক্ষতা।

এ ছাড়া চালকদের বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারভিত্তিক প্রাণহানি কমাতে মোটরসাইকেল আরোহীদের ভালো মানের হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে সরাসরি সংযোগ বন্ধ করে নিরাপদ সড়ক নকশা তৈরি এবং সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নজরদারির সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারভিত্তিক প্রাণহানি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com