ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের সঙ্গে বিরোধী জোটের সমানে-সমান লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। নির্বাচনের ফলাফল এতটাই কাছাকাছি যে এখনই চূড়ান্ত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না। সামান্য ব্যবধানে নেতানিয়াহু জোটের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন থেকে তা বেশ দূরে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলার পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটিতে প্রথম নির্বাচন হচ্ছে।
দুটি বুথফেরত জরিপের তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সমান-সমান। আর তৃতীয় একটি জরিপে নেতানিয়াহুর শিবির সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
বিবিসি বলছে, ইসরায়েলের ‘কান এলেভেন’ এবং ‘চ্যানেল থার্টিন’ নিউজ নেটওয়ার্ক তাদের বুথফেরত জরিপের যে তথ্য প্রকাশ করেছে, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী জোট দুটির প্রত্যেকটিই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
শেষ মুহূর্তে এসে চ্যানেল-টুয়েলভ তাদের বুথফেরত জরিপ সংশোধন করেছে। তাদের নতুন বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটকে সামান্য পিছিয়ে ৫০টি আসনে এবং নেতানিয়াহুর জোটকে ৫২টি আসনে বিজয়ী দেখানো হয়েছে।
এর আগে, তারা ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জোটের চাইতে বিরোধী জোটকে কিছুটা এগিয়ে দেখিয়েছিল। সর্বশেষ বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট নেসেটে একক বৃহত্তম দল হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে চ্যানেল টুয়েলভের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট ৫২ আসনে জিতেছে। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯ আসনে জিতেছে। আরব লিস্ট জিতেছে ১৯ আসনে।
তবে বুথফেরত জরিপের বরাতে বিবিসি বলছে, আরব দলগুলো ১৭টি বা তারও বেশি আসনে জয়ী হয়ে এ যাবতকালের মধ্যে তাদের সেরা ফলাফল অর্জন করার পথে রয়েছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি থেকে আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা ও ফলাফল আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিক গণনা শুরু হয়েছে যা এখনও চলছে। ভোর ৪টা পর্যন্ত প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে। তবে ভোট গণনা সম্পন্ন হতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।
এখন পর্যন্ত কোনো জোটেরই স্পষ্ট জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। যদিও নির্বাচনের ফলাফল এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র রূপ নিয়েছে।
সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট নবগঠিত ‘ইয়াশার’ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনিই মূলত বিরোধী শিবিবের ‘চেঞ্জ ব্লক’ এর প্রধান মুখ। এই জোটটি মূলত বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত যাদের সবার লক্ষ্য- নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো।
সরকার গঠনের জন্য সম্ভবত দলগুলোর মধ্যে সামনের দিনগুলোতে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা ও দরকষাকষি হতে যাচ্ছে, যেখানে একাধিক বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।
নেসেটের ১২০টি আসনের সবকটিতেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে দেশটির ইতিহাসে কোনো দলই এককভাবে কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আগে থেকেই সেখানে জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠিত হয়ে আসছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ