দেশের প্রশাসনিক হেড কোয়ার্টার বাংলাদেশ সচিবালয়কে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমান আমলেই এ কাজ শেষ করতে চায় সরকার।
ইতোমধ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর নতুন সচিবালয়ের তিনটি নকশাও চূড়ান্ত করেছে জাতীয় সংসদ ভবনের আদলে। সেটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপনও করা হয়েছে।
বুধবারের এক সভায় এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেছিলেন।
পাশাপাশি বর্তমান সচিবালয় চত্বরে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন সচিবালয় প্রকল্পের এখনো অনুমোদন হয়নি। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকার আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করতে চায়।
স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লাগবে। ওখানে রাস্তার প্রশস্ততা কেমন, কী পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে এগুলোর জরিপও করতে হবে। ইতোমধ্যে আমরা তিনটি নকশা করেছি। এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে সংসদ ভবনের মতো কোনো ফটক না থাকে। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের স্থাপত্যকে অনুসরণ করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালে শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে সরকার সেই উদ্যোগ থেকে ফিরে আসে। বিদ্যমান সচিবালয়ের মধ্যেই একাধিক বহুতল ভবন তোলে বিগত সরকার।
এ ছাড়া সচিবালয়ের পশ্চিমপাশের পরিবহন পুল ও জিপিও নিয়ে একটি সচিবালয় তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু পরে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সেখানেই সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন সচিবালয়ের কাজ শেষ হলে পুরোনো সচিবালয়ে গুলিস্তান সংলগ্ন আশপাশের এলাকায় থাকা সরকারি অফিসগুলো স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। তা অনুসরণ করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের নকশাও প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন। তার ওপর বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব আমলে নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় চিন্তা করা হয়েছে তিন হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি লে-আউট প্রস্তুত করেছে। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে; অনুমোদন পেলে বাস্তবায়ন কাজের উদ্বোধন করা হবে চলতি বছরের মধ্যেই।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আগামী ডিসেম্বরে কাজ শুরুর লক্ষ্যের কথা এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আর এটি প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করবেন এমন নির্দেশনা রয়েছে, সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য থাকলেও পুরো নির্মাণে চার থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বরে কাজ শুরু করতে চান। তবে ওই সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে কিনা, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথাও জানিয়েছেন তারা।
স্থাপত্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করেছেন তারা। প্রকল্প অনুমোদনের পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ