logo

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন

পিপলসনিউজ ডেস্ক

Published:08 Oct 2026, 06:19 PM

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন

এ বছর সাহিত্যে নোবেলে পেয়েছেন কানাডার কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন। ‘ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য’ তাকে পুরস্কারটি দেওয়ার কথা জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে পুরস্কার ঘোষণা করে দ্য সুইডিশ একাডেমি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো কর্মজীবনে অ্যান কারসন কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।

অ্যান কারসনের লেখায় কবিতা, গদ্য, সংলাপ ও অনুবাদ মিলেমিশে এক ভিন্নধর্মী সাহিত্যরীতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের অনুবাদের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। গ্রিক শাস্ত্রীয় সাহিত্য তার সৃষ্টিশীল কাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। অ্যান কারসনের সাহিত্যকর্মের পরিধি বেশ বিস্তৃত। অপেরার গীতিনাট্য থেকে সাহিত্য সমালোচনা এবং গদ্য-কবিতার মতো ভিন্নধর্মী রচনা— সব ক্ষেত্রেই তার স্বতন্ত্র সৃষ্টিশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত তার আলোচিত গ্রন্থ ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ এ ধারার অন্যতম উদাহরণ।

২০১৯ সালের ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’ নাট্যধর্মী পরিবেশনাতেও কারসনের সৃষ্টিশীলতার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট। এতে ইউরিপিদিসের ‘হেলেন’ নাটকের ট্রয়ের হেলেনের কাহিনীর সঙ্গে হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর জীবন ও চরিত্রকে একসূত্রে যুক্ত করা হয়েছে। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে অ্যান কারসনের নাম এখন আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিন, অ্যালিস মানরো ও আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মতো খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের পাশে যুক্ত হলো।

তবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। গত ১২০ বছরে লিও টলস্টয়, ভার্জিনিয়া উলফ ও হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতো সাহিত্যিকরা পুরস্কার না পাওয়ায় সুইডিশ একাডেমির সমালোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন লেখকদের উপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে। যদিও ২০১৬ সালে মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার বব ডিলানকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে পুরস্কারের সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মনে করেন, একাডেমি অনেক সময় জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী সাহিত্যিকদেরও বেছে নিয়েছে। ১৯৮২ সালে কলম্বিয়ার গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং ২০০৭ সালে ডরিস লেসিংয়ের পুরস্কারপ্রাপ্তির উদাহরণ দিয়ে তারা বলেন, নোবেল কমিটির অন্যতম লক্ষ্য হলো কম পরিচিত সাহিত্যধারাকে সামনে আনা এবং পাঠকদের নতুন সাহিত্যজগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

সুইডিশ ডিনামাইট উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী সাহিত্যে, বিজ্ঞান ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯০১ সালে। এরপর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর একটি হিসেবে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯০১ সালের পর থেকে ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অ্যান কারসনসহ এ পর্যন্ত ১৯ জন নারী সাহিত্যে নোবেল পেলেন।

গত বছর সাহিত্যে নোবেল পান হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। অ্যাপোক্যালিপ্টিক আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে এমন এক গভীর ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন সাহিত্যকর্মের জন্য তাকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়। ক্রাসনাহোরকাই এর জার্মান ভাষার উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’ সম্পর্কে নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এটি জার্মান সমাজের অস্থিরতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এতে জার্মানির একটি ছোট্ট শহরে সামাজিক অস্থিরতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বিপর্যস্ত জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর। পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন। 

মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com