weather ২৪.৯৯ o সে. আদ্রতা ৮৩% , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাণ সঞ্চারের পথে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা : গবেষকদের ধারণা

প্রকাশ : ২৬-০১-২০২৬ ১১:১৪

ছবি : সংগৃহীত

পিপলসনিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতির বরফঢাকা উপগ্রহ ইউরোপার তলদেশে লুকিয়ে থাকা বিশাল মহাসমুদ্রে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষাকারী রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতির কয়েক ডজন উপগ্রহের মধ্যে ইউরোপা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। এর উপরিভাগের ফাটল ধরা বরফের স্তরের নিচে একটি সুবিশাল লবণাক্ত মহাসাগর রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যাতে পৃথিবীর সব মহাসাগরের মিলিত পানির পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ পানি থাকতে পারে। এই কারণেই সৌরজগতের মধ্যে ভিনগ্রহে প্রাণের অনুসন্ধানের জন্য ইউরোপাকে অন্যতম সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর সঙ্গে ইউরোপার বড় পার্থক্য হলো, এর সমুদ্র সূর্যালোক ও অক্সিজেন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। ফলে সেখানে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য বা শক্তি উৎপাদন সম্ভব নয়। এমন পরিবেশে প্রাণের টিকে থাকার জন্য রাসায়নিক শক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীদের সামনে বড় প্রশ্ন ছিল— বৃহস্পতির তীব্র বিকিরণের ফলে ইউরোপার পৃষ্ঠে যে প্রাণরক্ষাকারী অক্সিডেন্ট তৈরি হয়, তা পুরু বরফের স্তর ভেদ করে নিচের মহাসাগরে পৌঁছায় কীভাবে?

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নতুন এক গবেষণা বলছে, ইউরোপার ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর সমাধান। গবেষকদের মতে, ইউরোপার পৃষ্ঠতলের বরফের কিছু অংশ ধীরে ধীরে নিচের দিকে তলিয়ে যায়। অত্যন্ত ধীরগতির হলেও এই নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উপরিভাগের জীবনদায়ী রাসায়নিক উপাদানগুলো বরফের স্তর ভেদ করে নিচের মহাসাগরে গিয়ে পৌঁছায়।   

গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক এবং বর্তমানে ভার্জিনিয়া টেক-এর পোস্টডক্টরাল গবেষক অস্টিন গ্রিন এক বিবৃতিতে বলেন, গ্রহবিজ্ঞান বা প্ল্যানেটারি সায়েন্সের ক্ষেত্রে এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণা, যা মূলত পৃথিবী নিয়ে গবেষণার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব থেকে অনুপ্রাণিত। সবচেয়ে দারুণ বিষয় হলো— এই নতুন ধারণাটি ইউরোপায় প্রাণের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের এক সমস্যার সমাধান দিচ্ছে। এটি ইউরোপার মহাসাগরে ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। 

বিভিন্ন মহাকাশযানের পাঠানো ছবি থেকে বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন যে বৃহস্পতির প্রবল মহাকর্ষীয় টানের কারণে ইউরোপার উপরিভাগ ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয়। তবে নতুন এই গবেষণা অনুযায়ী, ইউরোপার পৃষ্ঠতলের এই চলন বা মুভমেন্ট মূলত আনুভূমিকভাবে ঘটে থাকে, উলম্বভাবে নয়।    

বিজ্ঞানীদের মতে, বরফের স্তরে বড় ধরনের ফাটল তৈরির মতো চরম কোনো ঘটনা ছাড়া উপরিভাগের কোনো উপাদানের পক্ষে নিচে নামার সুযোগ সীমিত ছিল। কিন্তু নতুন এই তত্ত্বে সেই সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা।

গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতির এই উপগ্রহটির পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা বরফ সাধারণত একটি অনমনীয় বা জমাটবদ্ধ ঢাকনার মতো আচরণ করে। বরফের এই কঠিন আচরণের কারণে উপরিভাগের অক্সিডেন্টগুলোর নিচের মহাসাগরে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, ইউরোপার পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা লবণাক্ত বরফের পকেটগুলো আশপাশের বিশুদ্ধ বরফের তুলনায় যেমন ঘন, তেমনি কাঠামোগতভাবে দুর্বল হতে পারে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই ঘন বরফের অংশগুলো মূল স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে শুরু করে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় বরফের স্তর ভেদ করে রাসায়নিক উপাদানগুলো নিচের মহাসাগরে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে মাত্র ৩০ হাজার বছর। মহাজাগতিক সময়ের হিসেবে যা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।   

এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি ‘লিথোস্ফিয়ারিক ফাউন্ডিং’ নামে পরিচিত, যা অনেকটা পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মতোই। পৃথিবীতে গ্রহের সবচেয়ে বাইরের স্তরের কিছু অংশ ম্যান্টলে বা ভূ-অভ্যন্তরে তলিয়ে যাওয়ার যে ঘটনা ঘটে, তার সঙ্গে এর মিল রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বিজ্ঞানীরা ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার নিচে এই ধরনের প্রক্রিয়ার প্রমাণ পেয়েছিলেন।

ইউরোপাতেও একই ধরনের প্রক্রিয়া কাজ করছে কি না, তা যাচাই করতে অস্টিন গ্রিন ও তার দল কম্পিউটার মডেলের সাহায্য নেন। তারা ইউরোপার প্রায় ১৮ দশমিক ছয় মাইল (৩০ কিলোমিটার) পুরু বরফের স্তরের ওপর বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরীক্ষা চালান। গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের পরীক্ষা করা ছয়টি ভিন্ন পরিস্থিতির প্রতিটিতেই উপরিভাগের অন্তত ৩০০ মিটার গভীরে থাকা উপাদানগুলো বরফের স্তরের একদম তলদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে।  

গবেষণার সিমুলেশনে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এই তলিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে ১০ থেকে ৩০ লাখ বছর সময় লাগে এবং বরফের স্তরের একদম নিচে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৫০ লাখ থেকে এক কোটি বছর। তবে গবেষণাপত্রটি বলছে, যেসব স্থানে বরফের স্তর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বা দুর্বল, সেখানে মাত্র ৩০ হাজার বছরের মধ্যেই এই পতন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, লবণের পরিমাণ যেমনই হোক না কেন, উপরিভাগের বরফ যদি কিছুটা দুর্বল বা ভঙ্গুর অবস্থায় থাকে, তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়। গবেষণা অনুযায়ী, এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি ইউরোপার উপরিভাগের উপাদানগুলোকে নিচের মহাসাগরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি ‘দ্রুত ও কার্যকর পদ্ধতি’ হতে পারে।

আগামী বছরগুলোতে নাসার ‘ইউরোপা ক্লিপার’ মিশনের মাধ্যমে এই উপগ্রহটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে। ২০২৪ সালে উৎক্ষেপণ করা এই মহাকাশযানটি ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চার বছর মেয়াদি এই মিশনে যানটি ইউরোপার খুব কাছ দিয়ে প্রায় ৫০ বার ওড়ে যাবে। এর ফলে বিজ্ঞানীরা উপগ্রহটির তলদেশের মহাসাগরের গভীরতা পরিমাপ করতে পারবেন এবং সেখানে প্রাণের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ আছে কি না, তা আরো নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন।

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

প্রধানমন্ত্রী : পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী : পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ মৃত্যু হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ মৃত্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : রামিসা হত্যার বিচার ৫-৭দিনের মধ্যে, বিশেষ আদালতের ছুটি বাতিলের চিন্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : রামিসা হত্যার বিচার ৫-৭দিনের মধ্যে, বিশেষ আদালতের ছুটি বাতিলের চিন্তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল শুনানি ১ জুন রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল শুনানি ১ জুন