বাংলাদেশ ভারতে না খেললে বিকল্প দল নেবে আইসিসি, বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত
প্রকাশ : ২১-০১-২০২৬ ২২:৫৯
ছবি : সংগৃহীত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২৬-এ খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশকে এক দিন সময় দিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
নিরাপত্তাশঙ্কায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ার পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ নিয়ে আইসিসি বোর্ডসভায় ভোটাভুটি হয়েছে। ভোটে বাংলাদেশের জায়গায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সেটি কার্যকরের আগে বিসিবিকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে। এ জন্য এক দিন সময় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর দিয়েছে ক্রিকইনফো।
যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতে না যায়, তবে বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে দেখা যেতে পারে। ইউরোপিয় বাছাইপর্বে নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও জার্সির পেছনে থাকায় স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী হিসেবে স্কটল্যান্ড এখন হয়ে গেছে প্রথম দাবিদার। বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু সরিয়ে নিতে বিসিবির অনুরোধ বুধবার খারিজ হয়ে যায় আইসিসি বোর্ড সদস্যদের ভোটে। নিজেদের বাইরে স্রেফ আর একটি ভোট বাংলাদেশের পক্ষে গেছে বলে জানা গেছে। বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু এখনও জানানো হয়নি।
বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনেকবারই বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কোনোভাবেই ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আইসিসির পক্ষ থেকে এক দিন সময় বেঁধে দিলেও মোটামুটি নিশ্চিত করেই বলা যায়, বাংলাদেশকে ছাড়াই হতে যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ।
আইসিসি বোর্ডের এই অনলাইন সভায় যোগ দেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়াসহ টেস্ট খেলুড়ে সব দেশের প্রতিনিধি, সহযোগী দেশগুলোর দুই প্রতিনিধি, আইসিসির প্রধান নির্বাহী সাঞ্জোগ গুপ্তা, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাওয়াজা ও আইসিসির মহাব্যবস্থাপক (ইভেন্টস) গৌরাভ সাক্সেনা। এ ছাড়া ছিলেন আইসিসি দুর্নীতি দমন বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। গত শনিবার ঢাকায় এসে আইসিসির প্রতিনিধি হিসেবে বিসিবির সঙ্গে সভা করে গিয়েছিলেন তিনি।
ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া থেকেই সবকিছুর সূত্রপাত। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসারকে বাদ দেওয়ার পরদিনই বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না তারা। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হয়।
এরপর দুই দফায় সভা হয়েছে আইসিসি ও বিসিবির। তাতে কোনো সমাধান আসেনি। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে বারবার। বিসিবি দফায় দফায় তুলে ধরেছে নিজেদের নিরাপত্তা শঙ্কার ব্যাপারটি। আইসিসিও প্রতিবারই বলেছে, কোনো দলের প্রতি সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা ঝুঁকি নেই।
বিশ্বাস্যযোগ্য কোনো হুমকি দেখছে না আইসিসি: স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যালোচনাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন বিবেচনা করে ভারতের ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার, সংবাদকর্মী, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের কোনো ঝুঁকি বা হুমকি দেখছে না আইসিসি। আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি এসে এরকম পরিবর্তন বাস্তবসম্মত নয়, পাশাপাশি আইসিসি বোর্ড মনে করে গ্রহণযোগ্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি ছাড়া এই ধরনের পরিস্থিতিতে সূচিতে পরিবর্তন আনা হলে এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ আইসিসি ইভেন্টগুলোর মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বৈশ্বিক সংস্থা হিসেবে আইসিসির নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সমস্যা সমাধানে বিসিবির সঙ্গে আইসিসি দফায় দফায় বৈঠক ও আলোচনা করেছে এবং স্তরবিশিষ্ট রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রদানসহ বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ভাগাভাগি করেছে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
আইসিসির এক মুখপাত্র বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিসি বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলোচনায় যুক্ত ছিল, যার স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এই সময়ে আইসিসি স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আয়োজক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আশ্বাসসহ বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেছে। এসব মূল্যায়নের প্রতিটিতেই ধারাবাহিকভাবে বলা হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা বা সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য হুমকি নেই।’
ভারতের উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কীভাবে নিরাপদ- এমন প্রশ্ন তুলেছিল বাংলাদেশ। তবে আইসিসি মোস্তাফিজের ঘটনাটিকে ‘বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক’ অভিহিত করে লিখেছে, ‘প্রচেষ্টাগুলোর পরও বিসিবি তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে এবং বারবার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে তাদের এক খেলোয়াড়ের একটি ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণসংক্রান্ত একটি একক, বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই বিষয়ের সঙ্গে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা কাঠামো বা আইসিসি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের শর্তাবলির কোনো সম্পর্ক নেই।’
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com