রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল শুনানি ১ জুন
প্রকাশ : ২৪-০৫-২০২৬ ১৮:২৮
ফাইল ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রবিবার (২৪ মে) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গমেজ সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত।
এদিন দুগুর সাড়ে ৩টার দিকে আদালতে এই অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়। এরপর তা গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় মোট ১৫ জনকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) অহিদুজ্জামান প্রসিকিউশন বিভাগে তাদের বিবরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, 'সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।'
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে নিয়ে যান।
ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে একপর্যায়ে আসামির কক্ষের সামনে তার জুতা দেখতে পান রামিসার পরিবারের সদস্যরা।
ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং তার মাথা কক্ষের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।
এ সময় স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, তার স্বামী মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পিলসনিউজ/এসসি
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com