নরসিংদীতে সংঘর্ষ : মেঘনা নদীতে মিলল আরও একজনের লাশ, মামলা
প্রকাশ : ১৮-০৬-২০২৬ ১৯:৪০
সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়, রায়পুরা সার্কেল নরসিংদী/ ফাইল ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশ তিনজনের লাশ পাওয়ার কথা জানালেও এলাকাবাসীর দাবি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে পুলিশের ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় আব্দুল লতিফ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বীরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় বুধবার (১৭ জুন) রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
স্থানীয়দের তথ্যে, সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত তিনজনের লাশ পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ওসি মজিবুর রহমান।
ওসি মজিবুর রহমান বলেন, গোপীনাথপুরে রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ নিয়ে পুলিশ তিনজনের মৃতদেহ পেয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আরও কেউ নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন ওসি মজিবুর রহমান।
মঙ্গলবার ( ১৬ জুন) সংঘর্ষের ঘটনায় নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া (৩৫) এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২) এবং বুধবার বিকালে সদর উপজেলার জিৎরামপুর এলাকা হতে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। সবশেষ লতিফের লাশ পাওয়া গেল।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামে স্থানীয় জবা মেম্বারের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে ‘মিস্টার গ্রুপের’ সমর্থক মামুন নামের এক প্রবাসী গুলিতে নিহত হন।
এ ঘটনার পর থেকে হত্যা মামলার আসামি জবা মেম্বার, তার সহযোগী আলাল মুন্সি ও তাদের পক্ষের লোকজন পলাতক আছেন। এরপর থেকে দফায় দফায় ভাড়া করা লোকজন নিয়ে এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল জবা মেম্বারের লোকজন।
মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে ভাড়া করা অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করেন জবা মেম্বার ও তার সমর্থকরা। এ সময় ‘মিস্টার গ্রুপের’ লোকজন তাদের প্রতিহত করতে যায়। সংঘর্ষ হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। পরে আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আরও একজন মারা যান। এ ছাড়া দুই দিনে নদীতে ভেসে ওঠে আরও দুইজনের লাশ।
পিলসনিউজ/এসসি
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com