প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম
প্রকাশ : ০৩-০৬-২০২৬ ১৯:৩৬
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। ছবি : সংগৃহীত।
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সাইপ্রাসে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম।
সাক্ষাৎকালে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিনি সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে মিনহাজুল আলম অষ্টম সেনা কর্মকর্তা, যিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এর আগে সাতজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা আটটি ভিন্ন দেশে সফলভাবে এ দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ১৯৯৩ সালে মোজাম্বিকে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (মরহুম) আনিসুর রহমান। পরের বছর একই মিশনে দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম।
এছাড়া মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর সুদানে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবু তায়েব মুহাম্মদ জহিরুল আলম লাইবেরিয়ায়, মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ আইভরি কোস্ট ও পশ্চিম সাহারায় এবং মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সাইপ্রাসে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে পশ্চিম সাহারায় ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্বে রয়েছেন মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান। মিনহাজুল আলম সাইপ্রাসে দায়িত্ব গ্রহণ করলে একই সময়ে জাতিসংঘের দুটি পৃথক মিশনে বাংলাদেশি দুই সেনা কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মিনহাজুল আলমের এ নিয়োগ সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন।
সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী জাতিসংঘের দীর্ঘতম সময় ধরে পরিচালিত শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর একটি। ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত প্রতিরোধে এ মিশন গঠন করা হয়। এর প্রধান দায়িত্ব হলো জাতিসংঘের বাফার জোন বা ‘গ্রিন লাইন’ বজায় রাখা এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি রেখাগুলোর তত্ত্বাবধান করা।
মিশনটির জন্য অনুমোদিত সদস্যসংখ্যা ১ হাজার ৯০। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ৭২৭ জন সামরিক সদস্য, ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৪৮ জন বেসামরিক কর্মী কর্মরত ছিলেন।
বর্তমানে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, ইকুয়েডর, ঘানা, হাঙ্গেরি, ভারত, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, রাশিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ১৮টি দেশের সামরিক সদস্য এ মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী মিনহাজুল আলম ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। সর্বোত্তম সার্বিক পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি ‘অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠন’-এ নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত একটি ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া মধ্য আফ্রিকায় জাতিসংঘ মিশনের সেক্টর কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের চিফ ইনস্ট্রাক্টর ও কমান্ড্যান্ট এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী এই সেনা কর্মকর্তা জাতিসংঘের ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এর আগে তিনি কক্সবাজারভিত্তিক দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বও পালন করেন।
পিলসনিউজ/এসসি
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com