মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সব বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি
প্রকাশ : ১৯-০৮-২০২৬ ২০:৫৯
বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরের ফারস হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস বায়রার সদস্যবৃন্ধ/ ছবি : সংগৃহীত।
সিনিয়র রিপোর্টার
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে না রেখে দেশের সব বৈধ ও যোগ্য জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)।
বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরের ফারস হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)-এর সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান।
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রাখার পক্ষে তারা নন। দ্রুত এ বাজার খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। তবে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া অংশগ্রহণের মাধ্যমে নয়, সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই বাজার খুলতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ১০টি এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হয়। ২০১৮ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালে ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে বাজারটি পুনরায় চালু করা হয়।
পর্যায়ক্রমে এজেন্সির সংখ্যা ১০১টিতে উন্নীত হয়। কিন্তু অনিয়ম ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের অভিযোগের মধ্যে ২০২৪ সালে আবারও বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়।
বায়রার এই নেতা বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে নিয়ে কোনো অস্বচ্ছ বা একচেটিয়া ব্যবস্থা করা উচিত হবে না।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের জন্য ৪২৩টি এজেন্সির একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৬০টি এজেন্সি ১০টি মানদণ্ডের মধ্যে সাতটি এবং ১৬৩টি এজেন্সি ছয়টি মানদণ্ড পূরণ করেছে বলে দাবি করা হয়।
ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, শর্ত শিথিল করার পরও সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে প্রায় দুই হাজার এজেন্সি বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে নতুন করে একটি সিন্ডিকেট তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫০ লাখ রিঙ্গিত, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা, নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে প্রতিটি কর্মীর জন্য আরও ৫ হাজার রিঙ্গিত নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
বায়রা বলেছে, ২৫, ৫০ কিংবা ১০০টি এজেন্সির মধ্যে শ্রমবাজার সীমাবদ্ধ না রেখে নির্ধারিত স্বচ্ছ ও অভিন্ন নীতিমালার ভিত্তিতে সব বৈধ ও যোগ্য এজেন্সিকে সুযোগ দিতে হবে। সংগঠনটি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছে।
তাদের প্রস্তাব, বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার অথবা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
মালয়েশিয়া যদি সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিতে চায়, সে ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল) ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে বায়রা। এর মাধ্যমে সব বৈধ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতাও চেয়েছে সংগঠনটি।
অভিবাসন ব্যয় কমাতে স্বচ্ছ ডাটাবেজ তৈরি, কর্মীদের কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা এবং সরকারি নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছে বায়রা। সংগঠনটির নেতারা বলেন, আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অভিজ্ঞ, সক্ষম ও বৈধ সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে কাজে লাগাতে হবে।
বায়রার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলামও শ্রমবাজারে পুরোনো সিন্ডিকেট নতুন রূপে ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বায়রার প্রায় ২ হাজার ৬০০ সদস্যের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসার সুযোগ দিয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
রিয়াজুল ইসলামের দাবি, আগের সিন্ডিকেটে যেখানে প্রায় ৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছিল, এবার সেই অর্থের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত কর্মীদের ওপরই পড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদেশ যেতে একজন কর্মীর ব্যয় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে কর্মীরা শোষণের শিকার হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া—দুই দেশের সরকারের প্রতি শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের সুযোগ বন্ধ করে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
বায়রা নেতারা সতর্ক করে বলেন, আবারও কোনো সিন্ডিকেট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন তারা। প্রয়োজনে রাজধানীর শহীদ মিনারে আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তারা।
পিপলসনিউজ/ এস.সি
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com