রামিসা হত্যা মামলার রায়ে সরকার আপাতত সন্তুষ্ট : আইনমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৭-০৬-২০২৬ ১৯:৫৭
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র রিপোর্টার
পল্লবীতে আট বছর বয়সি শিশু রামিসকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলার রায়ে সরকার আপাতত সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। উচ্চ আদালতেও এই রায় কার্যকর থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। আমরা আইনের প্রত্যেকটি ধাপ পেরিয়ে ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বিচারে ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, এটি উচ্চ আদালতে গেলেও রায় বহাল থাকবে।
রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে একই দিন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হয়েছে।
বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে। অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায়ও আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় আসে।
আইনমন্ত্রী বলেন, জাতির কাছে অত্যন্ত দুঃখ এবং বেদনাভারাক্রান্ত একটি ঘটনা ছিল এ হত্যাকাণ্ড। তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবো না। আমাদের যতটুকু করার সেটা আমরা করার চেষ্টা করেছি। ১৯ মে'র ঘটনা, ২৪ মে'র মধ্যে আমরা তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দিতে সক্ষম হয়েছি। ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ছিল। আমাদের নিম্ন আদালতগুলো পয়লা জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সরকারি ছুটি ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা এক মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বদ্ধ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
তিনি বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যেই আপনারা দেখেছেন নিম্ন আদালতের বিশেষ করে শিশু ট্রাইব্যুনাল যেগুলো সারা বাংলাদেশে আছে, শিশু ট্রাইব্যুনালগুলোর পয়লা জানুয়ারি জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যে ছুটি ছিল, সেই ছুটি বাতিল করার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি তার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের শিশু ট্রাইব্যুনালগুলো এই ছুটির আওতার মুক্ত থাকবে। ২৪ মে দুপুরের দিকে চার্জশিট দিয়েছে, বিকালের মধ্যে সেই চার্জশিট সিএমএম আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালে যায়। ২৪ মে-ই সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল পয়লা জুন চার্জ ফ্রেমের জন্য দিন ধার্য করেন।'
এরমধ্যে অন্য কিছু ফরমালিটিস থাকে, তার একটি হলো আসামি পক্ষ কোন আইনজীবী দেয়নি। বা ঢাকা বারের সিদ্ধান্তের কারণে কোন আইনজীবী আসামি পক্ষের দাঁড়াতে হয়তো সম্মতি দেননি। যে আইনে মৃত্যুদণ্ড থাকে আমাদের বিধান হলো রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামি পক্ষকে একটা আইনজীবী দেওয়ার। আমরা ২৪ তারিখেই বিশেষভাবে রাষ্ট্রপক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছি যাতে করে ন্যায়বিচার প্রশ্নে কোনো প্রশ্নবোধক চিহ্ন না থাকে। সেই প্রেক্ষাপটেই ২৪ তারিখেই আমরা রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করেছি আসামির জন্য।'
১ জুন আদালত খোলার দিনেই চার্জ গঠন হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের বিধান মতেই পরবর্তী দিন সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। আসামি সোহেল রানা নিজে দায় স্বীকার করেছেন। তারপরের দিন আমরা যুক্তিতর্কের জন্য এখানে আদালত রেখেছিলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। আসামি পক্ষও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে। এরপর আজকে রায় হয়েছে।
আসাদুজ্জামান বলেন, কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে আমরা এ রকম বেদনাদায়ক একটি ঘটনার বিচার করতে সক্ষম হয়েছি, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। তিনি বলেন, 'যদিও আমাদের সাবকন্টিনেন্টে দেখি, ইতিপূর্বে ১৮৮২ সালে নদীয়া থেকে নদীয়া সেশন কোর্ট মল্লুক চাঁদ নামে এক ভদ্রলোককে তার নয় বছরের শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে একদিনে বিচার কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। সেই জায়গায় আমাদের এরপরে আর এত দ্রুত সম্ভব না। আমরা আইনের প্রত্যেকটা ধাপ পেরিয়ে আমরা ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি এবং এই বিচারে এই ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট ও আশা করি এটা উচ্চ আদালতে গেলেও এই রায় কার্যকর থাকবে।'
এর আগের আলোচিত রায়গুলো এখনও ঝুলে আছে, কার্যকর হয়নি। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনাদের প্রশ্নটা অত্যন্ত যৌক্তিক এবং ফ্রাস্ট্রেটেড একটা কোশ্চেন করেছেন। আমরা আমাদের আইনি বাধ্যবাধকতা আছে যে সাতদিনের মধ্যেই এই ফাইল চলে যাবে ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে। এ সমস্ত মামলায় পেপার বুক রেডি করতে হয়। পেপার বুক বাইরে করার সুযোগ নাই। পেপার বুক সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই হন হয়। এরপরে সুপ্রিম কোর্ট সিরিয়ালি এই মৃত্যুদণ্ড গুলোর বিষয় নিষ্পত্তি করেন।
এই শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলেছেন জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, উনিও আমাকে বলেছেন সব ডেথ রেফারেন্সগুলোই খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আরো বেশি ফোকাসড সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি এই বিষয়টা লেগে থাকবো যাতে করে যেগুলো আপনারা বললেন এবং আজকের এ মামলাসহ অন্যান্যগুলো যত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভব নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করব।
কতদিনের মধ্যে রায়ের আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে আইনে এ বিষয়ে কিছু বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন আদালতের বিষয়। এটা আমাদের সলিসিটর এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস যৌথভাবে উদ্যোগ নেবেন।
রায় কার্যক্রম না হয় একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে কিনা? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এইটা কার্যকর না হওয়াটা যেমন একটা ফ্রাস্ট্রেশনের জায়গা আবার এই কারনেই যে ঘটনা ঘটছে সেটা আপনারা হয়তো কেউ কেউ বলতে পারেন, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় না যে সম্পূর্ণ সেইটাই কারণ। এটা ওয়ান অফ দ্য রিজনস হতে পারে। কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ না। 'আমার প্রত্যাশা আগামী তিন মাসের মধ্যে করা (রায় কার্যকর) সম্ভব, যদি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এটাকে প্রায়োরিটি দিয়ে শুনানি করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইন মন্ত্রী বলেন, আমরা আইনের প্রত্যেকটি ধাপ পেরিয়ে ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বিচারে ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট, আশা করি এটা উচ্চ আদালতে গেলেও এই রায় কার্যকর থাকবে।
পিলসনিউজ/এসসি
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com