লালবাগে বন্ধুর বাসায় মাটিচাপা ছিল ব্যবসায়ীর লাশ
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার লালবাগ থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর এক ব্যবসায়ীর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বিসি দাস স্ট্রিটের পাঁচতলা একটি ভবনে পুলিশ অভিযান শুরু করে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে নিচতলার পাশে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম শেখ ওয়াসিম রনি। এ ঘটনায় তার বন্ধু মাসুম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিন লাখ টাকা সুদে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওয়াসিম রনি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আটক মাসুম চৌধুরীর দুলাভাই জানান, তার শ্যালক মাসুম ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন।
মাসুমের দুলাভাইয়ের দাবি, প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিম রনির কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তিন লাখ টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে ওয়াসিম রনির সঙ্গে মাসুমের বিরোধ চলছিল।
তিনি জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে পাওনা টাকা চাইতে ওয়াসিম রনি মাসুমের ব্যবসায়িক কক্ষে যান। সেখানে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে মাসুম ওয়াসিমের মাথায় ঘুষি মারেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যান বলেও জানান তিনি।
মাসুমের দুলাভাই আরও জানান, পরে পুলিশের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়ার পর তাকে ভবনের পাশের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। ওই স্থানেই মাটি দিয়ে লাশটি চাপা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ী ওয়াসিম রনি নিখোঁজ ছিল বলে গত ৮ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় জিডি করেন তার স্বজনরা। সেই জিডির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ রনির বন্ধু মাসুমকে আটক করে। পরে মাসুমের দেখানো মতে তার বাসার পেছন থেকে মাটিতে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় রনির লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, যেখান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে আসামির একটি কারখানা রয়েছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ