জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতের তালিকা নিয়ে বিতর্ক
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
সোহেলী চৌধুরী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের তালিকা— শুধু কিছু নামের সমষ্টি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি, ভুক্তভোগী পরিবারের মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন।
সেই তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে বিতর্ক ও অসংগতির অভিযোগ ওঠার পর যশোরে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কিন্তু তালিকা নিয়ে প্রশ্ন কেন উঠল, আগের যাচাইয়ে কোথায় ঘাটতি ছিল এবং নতুন কমিটি কীভাবে প্রকৃত আহত ও নিহতদের শনাক্ত করবে— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো জনসমক্ষে স্পষ্ট নয়।
যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রাজিদুর রহমান সাগর ও সামিউল আলম শিমুল। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা আগের কমিটির সদস্য মেজবাউর রহমান রামিম ও শোয়েব হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
কমিটিতে আরও রয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার, যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন যশোরের সিভিল সার্জন।
কমিটি পুনর্গঠনের ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের তালিকা পুনরায় যাচাই করে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা। তবে পূর্ববর্তী তালিকায় কী ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে, কতজনের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কিংবা যাচাইয়ের জন্য কী কী নথি ও মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে— প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই। ফলে তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ সামনে এলেও বিতর্কের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যাচাই-বাছাই যেন কেবল নাম পরিবর্তন বা কমিটির সদস্য পুনর্বিন্যাসে সীমাবদ্ধ না থাকে। আহতদের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, হাসপাতালের রেকর্ড, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং নিহতদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুল তথ্য থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীর নাম বাদ পড়লে আপত্তি জানানোর স্বচ্ছ প্রক্রিয়াও থাকা জরুরি।
নতুন কমিটির মাধ্যমে যাচাই কার্যক্রম আরও নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে— এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের। তবে কমিটিতে কারা থাকছেন, তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা কী পদ্ধতিতে কাজ করছেন, সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী এবং সেই সিদ্ধান্তের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের এই উদ্যোগ কি আগের বিতর্কের প্রকৃত কারণ সামনে আনবে, নাকি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াই নতুন প্রশ্ন তৈরি করবে? প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কমিটি কতটা স্বচ্ছভাবে কাজ করবে, তার জবাব মিলবে কার্যক্রমের ফলাফল ও প্রকাশিত নথিতেই।
পিপলসনিউজ/আরইউ