weather ২৪.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭৭% , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত ছাড়ার নোটিশকে অসাংবিধানিক বললেন ইমরান

প্রকাশ :

ভারত ছাড়ার নোটিশকে অসাংবিধানিক বললেন ইমরান

ছবি : সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক
ভারত ছাড়ার নির্দেশনার নোটিশকে ‘অসাংবিধানিক ও অযৌক্তিক’ দাবি করে বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া ওই নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদনও করেছেন তিনি।

ভারতের বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন দপ্তর (এফআরআরও) গত ১৪ অক্টোবর তাকে এই নোটিশ দেয়।

মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনায় ইমরানের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। গত ১০ অক্টোবর ওই বিক্ষোভস্থলের কাছে যাওয়ার পর তাকে আটক করে মুম্বাই পুলিশ। তবে আদালতে করা আবেদনে বিক্ষোভ আয়োজন বা এতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিনেতা।

শনিবার করা রিট আবেদনে ইমরান খান নোটিশটিকে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বলে উল্লেখ করেছেন। তার যুক্তি, কোনো বিক্ষোভস্থলের কাছে উপস্থিত থাকা কিংবা চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার কারণে কাউকে শাস্তি দিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগ করা যায় না।

আবেদনে তিনি দাবি করেন, ওই এলাকায় পুলিশি বিধিনিষেধ থাকলেও সেটি কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত কোনো নিষিদ্ধ স্থান ছিল না। তিনি গাড়ির দিকে ফেরার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরলে পুলিশ তাকে আটক করে বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন।

তার দাবি, বিক্ষোভ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত কোনো সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই এবং ঘটনার প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজও কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নেয়নি।

এসব বক্তব্য ইমরান খানের আবেদনে করা দাবি; আদালতে এখনো তা প্রমাণিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ইমরান খান দাবি করেছেন, তিনি দুই বছর বয়স থেকে ভারতে বসবাস করছেন। তার বক্তব্য, ভারতের নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর আওতায় ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) হিসেবে তার নিবন্ধন রয়েছে। কিন্তু এফআরআরও তাকে শুধু মার্কিন নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে নোটিশ দিয়েছে।

ইমরানের দাবি, ওসিআই নিবন্ধনের কারণে ভারতে বসবাসের আইনগত অধিকার রয়েছে তার। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা যায় না। এ ছাড়া সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত অধিকারের লঙ্ঘন হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এফআরআরওর এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা। তার দাবি, নোটিশে অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইন, ২০২৫-এর কয়েকটি ধারা উল্লেখ করা হলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো নেতিবাচক প্রতিবেদনের কথা বলা হয়নি।

এদিকে শনিবার ইমরান খানের ওসিআই নিবন্ধন কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এফআরআরও। ভারতের নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৭ডি(ই) ধারার আওতায় এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে তাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে কর্তৃপক্ষ ধরে নিতে পারে, এ বিষয়ে তার আর কিছু বলার নেই। এরপর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে যান ইমরান খান। সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছিল। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আবেদনে ইমরান বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সম্পর্কে কৌতূহল থেকেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশ এলাকাটি নিয়ন্ত্রিত বলে জানালে তিনি নির্দেশনা মেনে নেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিজেপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কিরিট সোমাইয়া অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও ওসিআই কার্ডধারী ইমরান বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আইন লঙ্ঘন করেছেন। পুলিশের পাঠানো এফআইআরের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ অক্টোবর তাকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেয় এফআরআরও।

নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের দ্রুত শুনানি চাওয়া হয়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপনের কথা রয়েছে।

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, ইশরাক বললেন গুজব মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, ইশরাক বললেন গুজব ইশরাকের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে আইনের ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা: ডিবি প্রধান ইশরাকের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে আইনের ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা: ডিবি প্রধান বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই দেশের আগামীর মূল অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই দেশের আগামীর মূল অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী