weather ২৯.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭৯% , রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শোকাবহ ১৫ আগস্ট

বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৫১ বছর

প্রকাশ : ১৫-০৮-২০২৬ ১৯:১৯

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান/ফাইল ছবি।

সোহেলী চৌধুরী
আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি  মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদত বার্ষিকী। গত দুই বছরের মতো এবারও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসেছে দিনটি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ থাকছে না কোনো আনুষ্ঠানিকতা। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পূর্ববর্তী টানা ১৫ বছর দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে ও ‘জাতীয় শোক দিবস’হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ আগস্টে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। 

২০২৫ ও ২০২৬ সালে দিনটি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি উদযাপন ছাড়াই ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অতিবাহিত হচ্ছে। তবে সাধারণ জনগণ এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ব্যক্তিগত বা দলীয় উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা সীমিত পরিসরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং তার ছেলে আরিফ ও সুকান্তবাবু, মেয়ে বেবি, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকার ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ফলে এবারও দিনটিতে কোনো রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি থাকছে না।  আগের ১৫ বছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হতো ‘শোকাবহ আগস্ট’। 

কিন্তু সরকার পতনের পর কার্যত ছিন্ন-ভিন্ন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আজ শনিবার আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। 

তবে আজ রাতে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা করার কথা জানানো হয়েছে। এতে ভারতে অবস্থানরত দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। এছাড়া ফেসবুকে কেউ কেউ বারবার আক্রমণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ এবং বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘোষণা দিচ্ছেন। 

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধেও কোনো কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছেন না দলীয় নেতাকর্মীরা। গণঅভ্যুত্থানের বছর ২০২৪ সালেও সেখানে গোপালগঞ্জ জেলা ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে স্বল্প পরিসরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া-মোনাজাতের কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। 

তবে ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢোকার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধের প্রধান ফটকসহ ভেতরে পুলিশের কঠোর পাহারা বসানো হয়েছে। স্থানীয় মানুষ এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। 

এই অবস্থায় কমপ্লেক্সটির ভেতরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর বাবা শেখ লুৎফর রহমান ও মা সায়েরা খাতুনের সমাধি জরাজীর্ণ রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে, রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এই চত্বরে অবস্থিত মসজিদ, লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র, প্রদর্শনী কেন্দ্র, উন্মুক্ত মঞ্চ, ফুলের বাগানসহ গোটা এলাকা অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরে উঠেছে।

মূলত ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকেই বাংলাদেশে এক বিপরীত ধারার যাত্রা শুরু হয়। বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসনের অনাচারি ইতিহাস রচিত হতে থাকে। সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। 

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারে।

দ্য টাইমস অব লন্ডন এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সব সময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই। একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনীদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করে। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতায় এলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামি বরখাস্ত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন। 

এরপর ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনীদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।

১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের নানা বাধার কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করে। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুণ্ডাদেশ বজায় রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। 

দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামিকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতি দানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।

২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর-২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ১২ আসামির মধ্যে  ৫ আসামির ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হয়।  তারা হলেন–সাবেক মেজর বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) ফারুক রহমান, কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, এ কে এম মহিউদ্দিন (ল্যান্সার) ও লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি)। 

২০২০ সালের ১২ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর আরো একজন খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ওই বছর ৭ এপ্রিল ঢাকার গাবতলী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার ৪৫ বছর, নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের মামলার ২৫ বছর এবং উচ্চ আদালতের রায়ে ৫ আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রায় দশ বছর পর গ্রেপ্তার হয় খুনি মাজেদ। 

সে সময় প্রায় দুই যুগ ভারতে আত্মগোপন করেছিলেন মাজেদ । আরেক পলাতক আসামির মৃত্যু হয় বিদেশে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আত্মস্বীকৃত পাঁচ খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার চেষ্টা করলেও তাদের ফেরত আনতে পারবে না, এটাই বাস্তবতা।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ভোরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সেই পলাতক পাঁচ আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) এ এম রাশেদ চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও সফল হয়নি আওয়ামী লীগ সরকার। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দল আওয়ামী লীগ (বর্তমানে  কার্যক্রম নিষিদ্ধ)। দিকে গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর কন্যা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী এখন দেশছাড়া। এই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেবে না বিএনপি সরকার। 

তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর খুনিরা যেসব দেশে আত্মগোপন করে আছেন, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী বন্দিবিনিময় বা প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকা বড় বাধা। অনেক পশ্চিমা দেশ মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না। বাংলাদেশ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনতে চাইলে সেই দেশগুলো আইনি জটিলতা বা মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে। 

অন্যদিকে, পলাতক আসামিরা আশ্রয় নেওয়া দেশের আদালতে আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে রেখেছেন। পাশাপাশি যেসব দেশে পলাতকরা আইনি মর্যাদায় বসবাস করছেন, তাদের অবস্থান হালনাগাদ করাও কঠিন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, রাজনৈতিক চিন্তা করলে সরকারের নীতি এক ধরনের হবে, আর আইনের শাসনের কথা চিন্তা করলে, বাংলাদেশে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। এটা সত্য যে আওয়ামী লীগ সরকার এই ফাঁসির আসামিদের ফিরিয়ে আনার জন্য বহু চেষ্টা করেছে, কিন্তু সফল হয়নি। যেহেতু ফাঁসির রায় হয়েছে, তাই বিদেশিরা তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা আসামিদের ফেরত পাঠাবে না। এই সরকার চেষ্টা করলেও তাদের ফেরত আনতে পারবে না, এটাই বাস্তবতা।

পিপলসনিউজ/ এস.সি

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অবসর ভাতার জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী অবসর ভাতার জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নায়েব আলীসহ গ্রেপ্তার ৫ ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নায়েব আলীসহ গ্রেপ্তার ৫ বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৫১ বছর বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৫১ বছর লোডশেডিংয়ের কারণে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি কোনো ফুটেজ লোডশেডিংয়ের কারণে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি কোনো ফুটেজ