ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাত, বন্ধ ৮ বিমানবন্দর
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মাউন্ট আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলো বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধী।
আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিটি ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি অবস্থানে। গত শুক্রবার গভীর রাত আগ্নেয়গিরিটি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। রাজধানী জাকার্তা ও আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার আকাশ আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া ছাইয়ে ঢেকে গেছে। এর ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই আটটি বিমানবন্দর একে একে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
রোববার সকালে সবার আগে জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়। এরপর একে একে বাকি বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করা হয়।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর ফলে অনেক ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ রাখার কারণে মূলত সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইটগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দোহা, সিডনি, কুয়ালালামপুরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চলাচলেও এর প্রভাব পড়েছে।
পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধী সোমবার বিবৃতিতে বলেন, ‘পরিবর্তনশীল এই আবহাওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি কখন ঠিক হবে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।’
জাকার্তার কাছাকাছি লামপুং ও পশ্চিম জাভা প্রদেশে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত একটি বিমানবন্দরসহ মোট আটটি বিমানবন্দর অন্তত আজ সকাল ৮টা ৫৯ মিনিট (গ্রিনিচ মান সময় ১টা ৫৯ মিনিট) পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।
আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আনাক ক্রাকাতোয়ার সর্বশেষ স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টা ২৩ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূকম্পনবিষয়ক সংস্থা বিএমকেজি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছাই আগ্নেয়গিরিটির জাভা দ্বীপের দিকের আকাশে ২০ হাজার ফুট (ছয় হাজার মিটার) এবং সুমাত্রা দ্বীপের দিকের আকাশে ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার মিটার) উঁচুতে ছড়িয়ে পড়েছে। জাভার বানটেন প্রদেশের কিছু অংশের আকাশেও ছাই ছড়িয়ে পড়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনতারা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জাকার্তা ও ল্যাম্পুংয়ের স্কুলগুলোতে দূরশিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
আনাক ক্রাকাতোয়ার অর্থ ক্রাকাতোয়ার সন্তান। প্রায় এক শতাব্দী আগে ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি যে এলাকায় ছিল, সেখান থেকে এটি নতুন করে জেগে উঠতে শুরু করে। পুরোনো ক্রাকাতোয়া ১৮৮৩ সালে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ধারাবাহিকতায় নিজেই ধ্বংস হয়ে যায়। ওই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট একাধিক সুনামিতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
পিপলসনিউজ/আরইউ