শীতের আগেই চলনবিলে অতিথি পাখির আগমন
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
ক্যালেন্ডারের হিসাবে শীত শুরু হওয়ার আগেই সিরাজগঞ্জের চলনবিল ও যমুনা নদীর চরাঞ্চলে শুরু হয়ে গেছে পরিযায়ী বা অতিথি পাখির আনাগোনা। দূর সাইবেরিয়াসহ বরফাবৃত হিমশীতল প্রান্তরের তীব্র শীত আর খাদ্যাভাব থেকে বাঁচতেই হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এই অঞ্চলে এসে আশ্রয় নিচ্ছে ডানাকাটা অতিথিরা। শুভ্র ডানা মেলে পাখির দল বেঁধে উড়ে চলা আর মুখরিত কিচিরমিচিরে সেজে উঠছে চলনবিলের সবুজ আঙিনা। রূপসী বাংলার এই নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখ জুড়াচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রদোষপ্রেমী ও বিনোদন পিয়াসীদের।
উপজেলার মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে সুপরিচিত তাড়াশ এলাকার চলনবিলে প্রতিবছর পানি শুকিয়ে আসার পর পাখিদের আগমন দেখা গেলেও এবার নদী-নালা ও বিলে পানি পুরোপুরি শুকানোর আগেই এদের পদাচারণা শুরু হয়েছে। চলনবিলের ১৪টি নদী ও ২২টি ছোট-বড় বিলে এখন প্রতিদিন সকাল থেকেই খাবারে খোঁজে ভিড় জমাচ্ছে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, শামুকখোল, বালিচোরা ও রাতচোরার মতো নানা বৈচিত্র্যময় পাখি। যমুনার পলিধোয়া চরাঞ্চলেও জাঁকিয়ে বসেছে তারা।
তবে এই অপূর্ব সৌন্দর্যের আবহ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে এক চরম সংকট। প্রকৃতির এই নিষ্পাপ অতিথিদের শিকার করতে ওৎপেতে আছে অসাধু ব্যাধ ও শিকারির দল। রাতের আঁধারে কিংবা ভোরে বিষটোপ, ফাঁদ ও জাল পেতে চলছে পাখি নিধনের মহোৎসব, যা আশঙ্কাজনকভাবে নষ্ট করছে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য।
সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘স্বাধীন জীবন’-এর নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক নাছিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাখি শুধু প্রকৃতির অলংকারই নয়, আমাদের পরম বন্ধু। শীতের প্রকোপ সহ্য করতে না পেরে সাময়িকভাবে আশ্রয় নেওয়া এসব পরিযায়ী পাখি ফসলের ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ খেয়ে পরিবেশ রক্ষায় বিশাল ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি জলাশয়ের দুর্বল ও রোগাক্রান্ত মাছ খেয়ে এটি মাছের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধিতেও দারুণ অবদান রাখে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী দেশি কিংবা পরিযায়ী পাখি শিকার ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুটা ঢিলেঢালা নজরদারির কারণে অসৎ চক্রটি পার পেয়ে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্ত জানান, অতিথি পাখি প্রকৃতির অনন্য রূপ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষির জন্য বড় ধরনের আশীর্বাদ। এরা প্রাকৃতিক উপায়ে ফসলের পোকা ধ্বংস করে, যার ফলে কৃষকদের বাড়তি কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না এবং এতে উৎপাদন খরচ অনেকটা কমে আসে। এমনকি পাখির বিষ্ঠাও জমির স্বাভাবিক উর্বরতা বাড়াতে চমৎকার জৈব সার হিসেবে কাজ করে।
পরিবেশবিদদের মতে, অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে শিকার বন্ধের পাশাপাশি বিল ও চরাঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
পিপলসনিউজ/আরইউ