কুমিল্লায় যুবদলের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় যুবদলের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক অটোরিকশা চালক।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আবু কাউছার (৩৫) নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সদস্য। তিনি কাপ্তানবাজার এলাকার প্রয়াত আবদুল মান্নানের ছেলে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কবির হোসেনের ছোট ভাই কাউছার।
আহত অটোরিকশা চালক মো. মাছুম মিয়া নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরের কাপ্তানবাজার এলাকার কাউছারের বন্ধু মো. শামীম এবং আদর্শ সদর উপজেলার নন্দিরবাজার এলাকার তানজিল ও তৌহিদের মধ্যে ছত্রখিল এলাকার একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
এদিন সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে শামীম, তার বন্ধু কাউছার, হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
কাউছারের বন্ধু হেলাল উদ্দিন বলেন, জমি নিয়ে চলমান বিরোধ নিরসনের জন্য আমাদেরকে সেখানে যেতে বলা হয়েছিল। আমরা সেখানে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা কাউছারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত অটোরিকশা চালক মো. মাছুম মিয়াকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বিকাল ৪টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কাউছারের পরিবার বিএনপির জন্য নিবেদিত। জমি নিয়ে বিরোধে এভাবে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন তিনি।
কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘হামলায় জড়িত তৌহিদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। তারা স্থানীয়ভাবে জমির দালালি করেন। কেউ জমি বিক্রি করতে গেলে তারা চাঁদাবাজি করেন।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ