ক্যানসারের অস্ত্রোপচার শেষে ভ্যাটিকানে ফিরেছেন পোপ লিও
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচার শেষে ইতালির রোমের জেমেলি হাসপাতাল থেকে ভ্যাটিকানে ফিরেছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিও।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) হাসপাতাল ছাড়ার সময় তাকে বিদায় জানাতে জড়ো হন কয়েক ডজন ভক্ত। এ সময় তারা ‘হোলিনেস’ ধ্বনি দিয়ে পোপকে শুভেচ্ছা জানান।
কালো রঙের একটি এসইউভিতে করে হাসপাতাল ছাড়ার সময় শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে ৭১ বছর বয়সী পোপ বলেন, ‘আমি এখন অনেক ভালো আছি, ধন্যবাদ।’
কারও সাহায্য ছাড়াই হেঁটে গাড়ির কাছে যান তিনি। গাড়িতে ওঠার আগে নিজের সার্জন ডা. স্তেফানো মার্গারিতোরা ও হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং বাইরে অপেক্ষমাণ ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়েন পোপ।
এ সময় ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ১৩ বছর বয়সী এক ইউক্রেনীয় কিশোরী তাকে হাতে তৈরি একটি পোপের পুতুল উপহার দেয়। উপহারটি নিতে কিছুক্ষণের জন্য থামেন পোপ। ওই কিশোরী জানায়, গত ডিসেম্বরে সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে পোপের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ তাকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছিল। হাসপাতাল ছাড়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ভ্যাটিকানের প্রবেশদ্বারে পৌঁছান তিনি।
গত মঙ্গলবার ৯০ মিনিট ধরে চলা অস্ত্রোপচারে পোপের ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরীক্ষায় তার ফুসফুসে পালমোনারি অ্যাডেনোকার্সিনোমা শনাক্ত হয়। এটি ফুসফুসের ক্যানসারের একটি সাধারণ ধরন। ক্যানসার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানতে আরও কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে সেসব পরীক্ষার ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চিকিৎসকদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রক্ত পরীক্ষার ফলাফল ও বুকের এক্স-রে প্রতিবেদনে অস্ত্রোপচারের পর পোপের শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি দেখা গেছে।
তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও সার্জন জানিয়েছেন, তিনি অন্যের সহায়তা ছাড়াই স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তিনি জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং হাসপাতালের অস্থায়ী চ্যাপেলে প্রার্থনা সভা পরিচালনা করেছেন।
শুক্রবার প্রকাশিত ছবিতে তাকে হাসপাতালের কর্মীদের জন্য ‘মাস’ পরিচালনা এবং তাদের মধ্যে পবিত্র রুটি বা কমিউনিয়ন বিতরণ করতে দেখা যায়।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, রোববার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সমবেত মানুষের উদ্দেশে পোপ ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাঞ্জেলাস’ প্রার্থনা পরিচালনা করবেন এবং আশীর্বাদ দেবেন। গত সপ্তাহেও অস্ত্রোপচারের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে বিস্মিত করার পর তিনি একইভাবে প্রার্থনা পরিচালনা করেছিলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন পোপ। ২০২৫ সালের জুনের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম ফোনালাপ। ভ্যাটিকানের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ‘সংলাপ ও শান্তি’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
এমন এক সময়ে তাদের এই কথোপকথন হলো, যখন ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার বোমা হামলা তীব্র হয়েছে এবং বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। পোপ ইউক্রেনের রাশিয়া-অধিকৃত ওলেশকি শহরে মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। বিবিসি সম্প্রতি জানিয়েছে, শহরটির বাসিন্দারা বেঁচে থাকার জন্য বাগানের আগাছা খেতে বাধ্য হচ্ছেন।
পোপের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, নভেম্বরের শুরুতে লাতিন আমেরিকা সফরের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে চান না তিনি। সফরের অংশ হিসেবে তার পেরুতে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি বহু বছর মিশনারি হিসেবে কাজ করেছেন। তবে সফরের আগে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, নাকি আরও চিকিৎসার প্রয়োজন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পোপ চতুর্দশ লিওর পরিবারেও ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে। তার বড় ভাই লুই প্রেভোর ২০১৭ সালে ক্যানসার শনাক্ত হয় এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পোপের মা মিলড্রেড ১৯৯০ সালে ক্যানসারে মারা যান। তার বাবা লুই ১৯৯৭ সালে কোলন ক্যানসার ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
পিপলসনিউজ/আরইউ