বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ ব্যবধানে হারাল আর্জেন্টিনা
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসি শেষবার আর্জেন্টিনার জার্সি পরবেন। তাকে বিদায় দিতে প্রস্তুত দেশের লাখ লাখ সমর্থকরা। দিনটি স্মরণীয় করার আগে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে তাণ্ডব চালাল আলবিসেলেস্তেরা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬২তম দলের বিপক্ষে রোববার (৪ অক্টোবর) ৭-০ গোলে ম্যাচটি জিতেছে আর্জেন্টিনা।
শক্তি, সামর্থ্য ও ঐতিহ্যে অনেক পিছিয়ে থাকা বুরকিনা ফাসো খর্ব শক্তির দল নিয়ে একদমই লড়াই করতে পারল না। তাদের স্রেফ উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা।
জালের দেখা পেয়েছেন লাউতারো মার্তিনেস, জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি, নিকো পাহ, হুলিয়ান আলভারেস, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও জুলিয়ানো সিমিওনে। অন্য গোলটি মওমওনি জিয়ালোর আত্মঘাতী।
চার্টার ফ্লাইটের জটিলতায় মরক্কো থেকে ম্যাচ শুরুর স্রেফ ঘণ্টা ছয়েক আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছায় বুরকিনা ফাসো। খেলার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল তাদের। এই দেরিতে জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই আসেননি, মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজায় আফ্রকার দেশটি। তাদের বিপক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
চতুর্থ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন লাউতারো মার্তিনেস। গোলরক্ষক তার স্পট কিক ঠেকিয়ে দেওয়ার পর ছুটে গিয়ে ফিরতি বল জালে পাঠান অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার।
জিয়াইকে অহেতুক জিয়ালো ফাউল করায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা।
নবম মিনিটে জিয়ালোর আত্মঘাতী গোলে দ্বিগুণ হয় ব্যবধান। হুলিয়ান আলভারেসের ক্রস ঠেকাতে পা বাড়িয়ে দেন বুরকিনা ফাসোর ডিফেন্ডার। এমন কিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলেন না গোলরক্ষক। পরে হাত বাড়ালেও বলের জালের যাওয়া ঠেকাতে পারেননি তিনি।
ত্রয়োদশ মিনিটে স্কোর লাইন ৩-০ করে ফেলেন প্রেস্তিয়ান্নি। লাউতারো মার্তিনেসের কাট ব্যাকে ডি বক্সে বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথার শটে ঠিকানা খুঁজে নেন বেনফিকার তরুণ উইঙ্গার।
২০তম মিনিটে এন্সো ফের্নান্দেসের শট ঝাঁপিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যবধোন বাড়তে দেননি সফরকারী গোলরক্ষক। ১২ মিনিটে চমৎকার রিফ্লেক্সে আলভারেসের হেড ঠেকান তিনি।
৩৩তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন পাহ। দুই মিনিট পর জালের দেখা পান তিন। আলেক্সিস মাক আলিস্তেরের রক্ষণচেরা পাস ধরে সঙ্গে থাকা ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে খুব কাছ থেকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন পাহ।
আগের ম্যাচেও গোল করেছিলেন এই তরুণ। আর্জেন্টিনার হয়ে তার গোল হলো তিনটি।
৩৬তম মিনিটে স্কোরলাইন ৫-০ করে ফেলেন আলভারেস। প্রেস্তিয়ান্নির কাটব্যাক পেয়ে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে বাকিটা সারেন আতলেতিকো মাদ্রিদ স্ট্রাইকার।
দুই মিনিট পর লাউতারোর শট কোনোমতে পা দিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। আলগা বল বুর্কিনা ফাসোর এক ডিফেন্ডার শরীর দিয়ে আটকে দেওয়ায় সুযোগ নিতে পারেননি আর্জেন্টিনার কেউ।
৪১তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে পাহয়ের শট একটুর জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। দুই মিনিট বাঁকানো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আলভারেসও।
বিরতির সময় পাঁচটি পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টিনা কোচ। এতো বদলে খেলায় একটু ছন্দপতন ঘটে। তবে এই অর্ধেও শুরু থেকে সুযোগ তৈরি করতে থাকে স্বাগতিকরা।
৫১তম মিনিটে সতীর্থের পাসে ধরে বাম দিকে ফাঁকায় থাকা লিওনেল ফ্লোরেসের শট শেষ মুহূর্তে পা বাড়িয়ে কর্নার করে দেন এক ডিফেন্ডার।
সাত মিনিটে পর ছবির মতো সম্মিলিত আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে ষষ্ঠ গোল এনে দেন মাস্তানতুয়োনো। বাম দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানোর ছোট পাস বক্সের মাঝামাঝি পেয়ে যান লাউতারো। সামনে ডিফেন্ডার থাকায় শট নেওয়ার পথটা সংকুচিত ছিল বলে তিনি বাড়িয়ে দেন ডান দিকে থাকা মাস্তানতুয়োনোর কাছে। নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন তিনি।
৬৭তম মিনিটে মাক আলিস্তেরের শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি বুর্কিনা ফাসোর গোলরক্ষক। ৮৬তম মিনিটে মাস্তানতুয়োনোর চমৎকার ফ্রি কিকও ব্যর্থ করে দেন তিনি।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সান্তিয়াগো কাস্ত্রোর গতিময় শট ফেরে ক্রসবার কাঁপিয়ে। দুই মিনিট পর ভালেন্তিন বার্কোর চমৎকার ক্রসে দূরের পোস্টে হেডে জাল খুঁজে নেন সিমিওনে।
বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার সকালে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে শেষবার দেশের হয়ে খেলবেন মহাতারকা লিওনেল মেসি।
পিপলসনিউজ/আরইউ