ডেঙ্গু ও হামে রোধ করা যাচ্ছে না প্রাণহানি
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাবে দেশে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা, হাসপাতালেও বাড়ছে রোগীর চাপ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৮টার আগ পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছয়জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৯৮ জন। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এক হাজার ১৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরের শুরু থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬৩ হাজার ১৭০ জন। চলতি বছরের শনিবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৬৯৯ জনে, যা প্রায় দ্বিগুণ। গত বছরের এই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন ২৫৯ জন। এ বছর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৭৭।
অন্যদিকে, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয় চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি। সেই সময় থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০৪ জনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ২২২।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৩২৪ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন।
সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগাম পরিকল্পনা, সমন্বিত পদক্ষেপ ও চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির কথা বলা হলেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান সেই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের আশা, অক্টোবরের মধ্যেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যেও ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমার দাবি উঠে এসেছে। তবে একই সময়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় রোগ দুটি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু ও হামকে কেবল প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমে মোকাবিলা করা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ। হামের ক্ষেত্রে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা, টিকাদানে কার্যকর মাইক্রোপ্ল্যানিং, প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদ নিশ্চিত করা এবং রোগীদের জন্য স্তরভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরীক্ষা বাড়ানো, আক্রান্তদের যথাযথ পর্যবেক্ষণ এবং হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থা তৈরিরও পরামর্শ তাদের।
প্রতিদিনের মৃত্যুর পরিসংখ্যানের আড়ালে রয়েছে অসংখ্য পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। তাই প্রশ্ন উঠছে, সরকারি উদ্যোগের পরও কেন থামছে না ডেঙ্গু ও হামে মৃত্যু? বিদ্যমান কর্মসূচির কোথায় ঘাটতি, আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন— এসব প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।
গত বৃহস্পতিবার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, ঘন ঘন বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। অক্টোবরের মধ্যেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি হঠাৎ করে অবনতি হয়নি। গত বছর ও তার আগের বছরেও বিপুলসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওষুধ, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
তিনি জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। যেসব এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, সেসব এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সেমিনার শেষে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের চার মাস আগের আগাম পরিকল্পনা ও সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে অতীতের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার ফলে আগের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতির তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা ও তীব্রতা অনেক কম। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সরকার কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখছে না। প্রতিটি মৃত্যুই অত্যন্ত বেদনার এবং সরকার সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় নামাতে কাজ করছে।
সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে আসার কথা বলা হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে হামের প্রাদুর্ভাবও অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগ দুটি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু ও হাম জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি। এ ধরনের পরিস্থিতি গতানুগতিক রোগের চিকিৎসাব্যবস্থা দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে না। জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু নিয়ম রয়েছে। কোভিড মহামারির সময়ও এর নমুনা দেখা গেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, তারা গতানুগতিক রোগের চিকিৎসার জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এভাবে হবে না, হচ্ছেও না। দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ থাকা সত্ত্বেও পদ্ধতিগত পরিবর্তন না করায় জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। ফলে রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে।
মুশতাক হোসেন বলেন, হামের টিকা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দিতে হবে। হাম অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এ রোগ প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। বিষয়টি জানা সত্ত্বেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না। টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার, তা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জানে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদ দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, কতটি আইসিইউ কিনতে হবে, তা মন্ত্রীর কাছে আছে। কিন্তু এক লাখ আইসিইউ কিনতে পারলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য এক কোটি দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী লাগবে। এই পদ্ধতিতে জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের অভিযোগ, সরকার টিকাদান কার্যক্রমেও স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করছে না। মানুষকে যেভাবে ফাঁকি দেওয়া যায়, সেভাবে টিকাদান কার্যক্রমে ফাঁকি দিয়ে ভাইরাস মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ভাইরাসকে এভাবে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। টিকা দিতে হলে মাইক্রোপ্ল্যানিং করতে হবে, এর কোনও বিকল্প নেই। যত টাকা ও খরচ প্রয়োজন, তা করতে হবে। তা না হলে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের টিকাদানের যে সুনাম ছিল, তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দলগুলো বলেছে, বাংলাদেশের টিকাদানের সেই সুনাম আর নেই। টিকাদান কার্যক্রমে অনেক অসম্পূর্ণতা রয়েছে।
ডেঙ্গুর টিকা প্রসঙ্গে মুশতাক হোসেন বলেন, টিকা নিয়ে তাড়াহুড়া করতে গিয়ে কয়েকটি দেশে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। টিকাটি নিরাপদ কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখনো টিকাটিকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন দেয়নি। অর্থাৎ, টিকাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখনও পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এবং ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সিও টিকাটি অনুমোদন করেনি। অতি উৎসাহী হয়ে টিকাটি চালু করতে গেলে বিপদ হতে পারে। টিকা নেওয়ার পর কেউ মারা গেলে সব টিকাদান কার্যক্রমই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই সরকারকে ধাপে ধাপে এগোতে হবে এবং স্বীকৃত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
মুশতাক হোসেন বলেন, সরকারি উদ্যোগে কাজ হবে না, এমন নয়। তবে জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। এই টাস্কফোর্স প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং টিকাদান কার্যক্রম ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করবে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মতো কোন কোন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, তার তালিকাও তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত দরিদ্র পরিবারের শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সব রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাঝারি মানের হাসপাতালেও তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেখানে পর্যবেক্ষণে রাখলে প্রায় ৯০ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে। আর যেসব রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন, তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। এভাবে স্তরভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায়ও একই ধরনের পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ যেসব এলাকায় বেশি, সেসব এলাকায় পরীক্ষা বাড়াতে হবে। পরীক্ষায় যাদের ডেঙ্গু শনাক্ত হবে, তাদের ১০ দিন বাসায় বিশ্রামে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের বাসায় থাকার পর্যাপ্ত জায়গা নেই, তাদের জন্য কমিউনিটি সেন্টারে ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
মুশতাক হোসেনের মতে, এভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে এবং আইসিইউতে রোগীর চাপও কমবে। ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলায় এভাবেই স্তরভিত্তিক ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে।
ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু : দেশে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয় জনের মৃত্যু এবং এক হাজার ৮৯৮ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
চলতি বছর এ নিয়ে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭৭ জনের প্রাণ গেল। এর মধ্যে চলতি অক্টোবর মাসে প্রাণ গেছে ১৩২ জনের। আর হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৬৯৯ জনে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৫৯ জন ভর্তি হন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হন ৩৪১ জন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৮১ জন।
অন্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২৫২ জন, চট্টগ্রামে ২৩২ জন, খুলনায় ৩৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৭৫, রাজশাহী ১৪১, রংপুরে ৫১ এবং সিলেটে সাতজন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ২ হাজারের মতো।
হামের উপসর্গে আরও আটজন মারা গেছে, মোট মৃত্যু ১২২২ : হামের উপসর্গে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও আট জন মারা গেছে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছেন এক হাজার ১১৮ জন। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০৪ জনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ২২২।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত এ পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও এক হাজার ১৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৫১। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ২৩ হাজার ৩২৪ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। আর হামের উপসর্গে যে আটজন মারা গেছে, তাদের তিনজন ঢাকা বিভাগের। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুজন করে। একজন ময়মনসিংহ বিভাগের।
পিপলসনিউজ/আরইউ